সস্তায়.কম আপনার প্রিয় অনলাইন শপ

মসজিদের টয়লেট নির্মাণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে

দেশ জুড়ে

নিউজ ডেস্ক ২ | ২৮ Jul ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫১ অপরাহ্ন

ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলার রাজাপুর ইউপির গনিপুর মোবারক আলী জামে মসজিদে শৌচাগার ও সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত প্রকল্পের তিন লাখ টাকার কাজ না করেই প্রকল্পের শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে ভুয়া বিল ভাউচার জমা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সেই টাকা উত্তোলনও করা হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ঠিকাদার মাহবুবুল হকের বিরুদ্ধে কাজ না করেও সমুদয় টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার বিভাগ, মসজিদ পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয়রা জানায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে মসজিদ মন্দির উন্নয়ন প্রকল্প থেকে উপজেলার রাজাপুর মোবারক আলী জামে মসজিদের উন্নয়ন কাজ শৌচাগার ও সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক কাজটি দরপত্রের মাধ্যমে অন্য একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নেয়।

কিন্তু সরকারি বরাদ্দের টাকার বিষয়টি গোপন করে মসজিদের তহবিলে জমানো টাকা (দানের টাকা) দিয়ে মাহবুবুল হক শৌচাগার ও সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ শেষ করেন। পরে ওই কাজের ছবিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভুয়া বিল ভাউচার জমা দিয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে গত মে মাসে সরকারি বরাদ্দকৃত তিন লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মাহবুবুল হক। পরে সরকারি বরাদ্দের বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও মসজিদ কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তারা জানতে পারেন। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সভাপতি মাহবুবুল হক প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হন।

মোবারক আলী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বলেন, মসজিদের শৌচাগার ও সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ তিন লাখ টাকার বিষয়টি সভাপতি ছাড়া আর কেউ জানতেন না। সভাপতিও কোনোদিন এ বিষয়ে কিছুই বলেননি। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে সভাপতিকে মসজিদের ভেতরে লোকজন জিজ্ঞাসা করেন। তিনি কোনো জবাব না দিয়ে এড়িয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, নির্মাণকাজ ও আত্মসাতের বিষয়টি জানতে গত কয়েকদিন আগে মসজিদের লোকজন উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলীর কাছে যান। পরে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন মসজিদের কাজ পরিদর্শনে যেয়ে আত্মসাতের বিষয়টির সত্যতা পায়।

উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী সৌরভ দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সহকারী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন। এসময় মসজিদ কমিটির সভাপতি মাহবুবুল হক মসজিদের জন্য সরকারি বরাদ্দের তিন লাখ টাকা উত্তোলন করার বিষয়টি স্বীকার করেন। সভাপতি আত্মসাতকৃত টাকাগুলো ক্রমান্বয়ে ফেরত দেবেন বলে অঙ্গীকারনামা দেন। বৈঠকে আত্মসাতকৃত সেই টাকা দিয়ে মসজিদের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে মসজিদের সভাপতি মাহবুবুল হক জানান, আত্মসাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ পেতে হলে আগে কাজ শেষ করতে হয়। সেজন্য মসজিদের ফান্ড থেকে কাজ করা হয়েছে। প্রকল্পের তিন লাখ টাকা দিয়ে এখন সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • *
  • এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আরও খবর