সস্তায়.কম আপনার প্রিয় অনলাইন শপ

ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল এমসি কলেজ

দেশ জুড়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ০৩:৫১ অপরাহ্ন

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় আন্দোলনে নেমেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে ছাত্রলীগের দুই শতাধিক নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

এ সময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনার বাংলায় ধর্ষকের স্থান নেই,’ ‘ঘাতক-ধর্ষকের ফাঁসি চাই’ বলে স্লোগান দেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে নেতৃত্ব দেন এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা দেলওয়ার হোসেন, হোসাইন আহমদ, রাসেল আহমদ, শামীম আলী ও আলতাফ হোসেন মোরাদ।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, করোনা পরিস্থিতিতে কলেজ বন্ধ থাকার পরও ছাত্রাবাস কীভাবে খোলা রাখে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এসব অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ অবগত থাকার পরও কেন ছাত্রাবাস বন্ধ করে দেয়া হলো না। আজ ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠে কলঙ্কের দাগ লেগেছে। শিক্ষার্থীরা গণধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

গতকাল শুক্রবার সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন ওই গৃহবধূ। রাত ১০টার দিকে টিলাগড় এলাকার কলেজটির ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধূকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে নগরীর শাহপরাণ থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় কর্মী ও অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাছুম, রবিউল হাসান, তারেক আহমদ ও অর্জুন। এরা সবাই আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রঞ্জিত সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে গণধর্ণণে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানের রুম থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি রামদা, দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করা হয়েছে।

গণধর্ষণের ঘটনার পর সব ছাত্রকে ছাত্রাবাস ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার মধ্যে ছাত্রাবাস ছাড়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দুপুর ২টায় এমসি কলেজের হোস্টেল সুপার মো. জামাল উদ্দিন জানান, এমসি কলেজের অধ্যক্ষের আহ্বানে জরুরি বৈঠক চলছে। বৈঠকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর